ছোটদের উৎসবগুলো ফিরে আসুক
ইমদাদুল হক মিলন: কিশোর গ্যাং আমাদের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের এক শ্রেণির কিশোর বখে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে। তারা কোনো শাসন বারণ মানে না। তারা খুনাখুনি করছে। চাঁদাবাজি করছে। নানা ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করছে। থানা হাজত ভেঙে বীরদর্পে স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসন ব্যতিব্যস্ত। অভিভাবকরা চিন্তিত। পত্রপত্রিকায় প্রতিনিয়ত লেখালেখি হচ্ছে।
নানা রকমভাবে এক শ্রেণির কিশোরকে দোষারোপ করা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক নিজের কিশোর ছেলেটিকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন। শিক্ষকরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। কোনো কোনো কিশোরকে ধরে কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে কতটা সংশোধিত হচ্ছে, সে খবর আমরা সঠিকভাবে পাই না।
আবার এমনও শুনি, বখে যাওয়া কিশোরদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে সমাজের আরেক শ্রেণির নষ্ট মানুষ। তাদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক ঢুকে গেছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মাদক কারবারিরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে কোনো কোনো কিশোরকে মাদক বহন করার কাজে ব্যবহার করছে। মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজেও নিয়োজিত করা হয়েছে তাদের। কিশোরদের একটি শ্রেণিকে মাদকে আসক্ত করে তুলেছে তারা। এসব শিশু-কিশোর কেউ কেউ নাকি আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করে। পুলিশ প্রশাসন কিংবা আইনের তোয়াক্কা করে না। তাদের নিন্দামন্দ শোনা যাচ্ছে চারদিকে। কিন্তু কেন ওরা এভাবে নষ্ট হয়ে গেল, কেন পড়ালেখা না করে নষ্ট পথে পা বাড়াল, এই কারণগুলো কি খতিয়ে দেখছি? কোনো মা-বাবাই কি চান তাঁর ছেলেটি নষ্ট হয়ে যাক? একজন ডাকাত কি কখনো চান তাঁর ছেলে ডাকাত হোক? গুন্ডা- মাস্তানরা কি চান তাঁদের ছেলেরা তাঁদের পথ অনুসরণ করুক? কোনো প্রকৃত শিক্ষক কি চান তাঁর ছাত্রটি বিপথে পা বাড়াক? তারপরও এই সর্বনাশটি আমাদের কেন হলো? সমাজের একটি শিশুর নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে দেশের একটি সন্তানের নষ্ট হয়ে যাওয়া। রাষ্ট্রের একটি শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া। একটি প্রতিভা বিকশিত হওয়ার আগেই বিনষ্ট হয়ে যাওয়া, ফুলটির কলিতেই ঝরে যাওয়া।
শিশু-কিশোরদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ আমাদের। আমরা আমাদের কিশোর ছেলেটির দিকে মনোযোগ দেইনি। সে কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, স্কুলের নাম করে স্কুলে যায় কি না, ক্লাসের পড়াটা পড়ে কি না! আমরা অনেক অভিভাবক এসবের খোঁজখবরই রাখি না। অসৎ সঙ্গে পড়ে ছেলেটি আমার বিপথে চলে গেল কি না, আমরা তা জানিই না। হয়তো একসময় আমাদের টনক নড়ল, তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছেলেটিকে আমরা আর সুপথে ফিরিয়ে আনতে পারছি না। একটি মোবাইল ফোনের জন্য হয়তো সে অন্য কিশোরের ওপর চড়াও হলো। বড় রকমের একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলল। দিনে দিনে এমন অবস্থা হলো, সে মা-বাবা কিংবা শিক্ষকদের কথাই আর শোনে না। কোনোভাবেই তাকে আর আয়ত্তে রাখা যায় না। সে চলে যায় আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু বড় হওয়ার মুহূর্ত থেকেই যদি তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর দেওয়া যেত, তাকে অভ্যস্ত করা যেত সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে, সঠিক পথে যদি তাকে পরিচালনা করা যেত, তাহলে তার নষ্ট হওয়ার কোনো কারণই থাকত না। এই দোষ আমাদের। অভিভাবক ও গুরুজনদের। এমনও তো শুনি, কোনো কোনো শিক্ষকও নাকি নিজের সুবিধার জন্য কিশোর বয়সী ছাত্রদের ব্যবহার করেন। ভাবা যায়! এই অধঃপতন হয়েছে আমাদের?
আমরা যাঁরা জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি, তাঁদের কৈশোরকালটা কেমন ছিল? এখনকার মতো কি? একদমই না। তখনকার নিয়ম ছিল সকালে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসা। ১০টার দিকে খেয়েদেয়ে স্কুলে চলে যাওয়া। টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের মাঠে ছোটাছুটি, খেলাধুলা, হৈ-হল্লা আর আনন্দ। বিকেলবেলা বাড়ি ফিরে খেয়েদেয়ে চলে যাও খেলার মাঠে। মনের আনন্দে খেলাধুলা করো। কিন্তু মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফিরতে হবে। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। বাড়ি ফিরে পড়তে বসতে হবে। রাতের খাওয়া শেষ করতে হবে ৮টা সাড়ে ৮টার মধ্যে। তারপর আবার পড়াশোনা। ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়া। টেলিভিশন আসার পর রাতের খাওয়াদাওয়া শেষ করে জরুরি পড়াশোনা না থাকলে টেলিভিশন দেখো, কোনো আপত্তি নেই। তখন প্রতিটি স্কুলের সঙ্গে মাঠ ছিল। পাড়া মহল্লায় মাঠ ছিল। প্রতিটি গ্রামের এদিক ওদিকে তিনটি চারটি করে মাঠ। সাঁতার কাটার জন্য পুকুর আর খাল ছিল, নদী ছিল। আমাদের নদীগুলোর বেশির ভাগই মরতে বসেছে। খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে, পুকুরগুলো উধাও। খাল-পুকুর ভরাট করে বাড়িঘর হয়ে গেছে। মাঠের অস্তিত্বই নেই। গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠটার চারদিকে দোকান আর দোকান। বিশাল মাঠটি সংকুচিত হয়ে গেছে। শহরের বেশির ভাগ স্কুলেই মাঠ নেই। শিশুদের বড় বন্ধু ছিল মাঠ। বাড়ির কাছে একটা মাঠ থাকলে বাড়ির শিশুটিকে বলতেও হতো না, ‘মাঠে গিয়ে খেলা করে এসো’। মাঠটিই তাকে ডেকে নিত। আমাদের সেই জায়গাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ছুটির দিন শহরের শিশুরা রাস্তায় ক্রিকেট-ফুটবল খেলে। তাদের মাঠগুলো আমরা খেয়ে ফেলেছি। বাচ্চাগুলো যাবে কোথায়? তাদের বশে রাখার জন্য অনেক মা-বাবা মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিয়েছেন। গেমসে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে শিশুরা। দুধের শিশুটির হাতে মোবাইল না দিলে সে নাকি খেতে চায় না। তো সর্বনাশটা কারা ঘটাচ্ছে? শিশুরা না আমরা? আগে একটা শিশুর হাতে বই ধরিয়ে দেওয়া হতো, এখন ধরিয়ে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন। অবশ্য যাদের সামর্থ্য আছে। মা-বাবা মোবাইল ফোন কিনে দেয়নি বলে রাগে অভিমানে আত্মহত্যা করে শিশু। এ তো বুক হিম করা সংবাদ! আসলে আমরাই তো আমাদের শিশুদের হত্যাকারী। তার সঠিক পরিচর্যাটা করতে পারছি না। তার সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার পথটা বন্ধ করে দিচ্ছি।
স্কুল, খেলার মাঠ, পুকুরে নেমে সাঁতার কাটা এসবের বাইরে আরো কত রকমের আনন্দ ছিল আমাদের কিশোরবেলায়। স্কুলে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকত। নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় আর কোরআন তিলাওয়াত। বই পড়ার প্রতিযোগিতা থাকত। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকত। সে সবের কতটা এখন আছে, আমরা সবাই তা কম বেশি জানি। পাড়ায় পাড়ায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হতো, গ্রামে গ্রামেও হতো। কোথায় হারিয়ে গেছে সেসব। তাহলে আমাদের শিশুরা কী করবে? কোথায় যাবে? বাড়ি থেকে বই উধাও হয়ে গেছে, পাড়া মহল্লার পাঠাগারগুলো নেই। পাড়ার ক্লাবগুলোতে বছরভর নানা রকমের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত, সেসব ক্লাব কি এখন আছে? টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এত এত বিনোদনের ব্যবস্থা। শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান কয়টি? এত এত সিনেমা হয় বাংলাদেশে, একদল তরুণ নির্মাতা ও অভিনেতা-অভিনেত্রী এসে আমাদের সিনেমার চেহারা বদলে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে গেছে আমাদের সিনেমাগুলো। বড় বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে একটিও ছোটদের উপযোগী চলচ্চিত্র নির্মিত হয় না। নানা ধরনের সামাজিক সংগঠন ছিল। যেমন—‘খেলাঘর’, ‘কচিকাঁচার মেলা’, ‘চাঁদের হাট’—এসব সংগঠনে যুক্ত থাকত হাজার হাজার শিশু-কিশোর। সেসব সংগঠন কোনো কোনোটা হয়তো আছে, কিন্তু তাদের কার্যক্রম সেভাবে আর বিস্তৃত নেই। শিশু-কিশোরদের জন্য বড় রকমের উৎসব আনন্দের আয়োজনও এই সংগঠনগুলো আগের মতো আর করতে পারে না। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের শিশুদের সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সব পথ আমরা রুদ্ধ করে দিয়েছি।
এই অবস্থায়ও কোথাও কোথাও আশার আলো দেখতে পাই আমরা। কেউ না কেউ আলো হাতে এগিয়ে আসেন। অন্ধকার চলার পথটি আলোকিত করে দেন। অতি সম্প্রতি এই রকম এক আলো ঝলমলে উৎসব হয়ে গেল ঢাকায়। উৎসবটি সম্পূর্ণই শিশু-কিশোরদের জন্য। ‘ছোটকাকু উৎসব’। আমাদের শিশুসাহিত্যের এক অগ্রগণ্য লেখক ফরিদুর রেজা সাগর। কিশোর বয়স থেকে লেখালেখি করেন। প্রচুর বই লিখেছেন। বেশির ভাগই শিশু-কিশোরদের জন্য। ওই শ্রেণির পাঠকের কাছে সাগর খুবই জনপ্রিয় লেখক। সাগরের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব সদ্য কৈশোরকাল অতিক্রম করার সময়। তিয়াত্তর সাল থেকে। ‘চাঁদের হাট’ নামের এক সংগঠনে আমাদের একত্র করেছিলেন ‘রফিকুল হক দাদুভাই’ নামের একজন জাদুকর। তাঁর চারপাশ ঘিরে তৈরি হয়েছিল শিশু-কিশোরদের একটি বিরাট দল। ফরিদুর রেজা সাগর, আফজাল হোসেন, আবদুর রহমান, দিদারুল আলম, খন্দকার আলমগীরের মতো আরো অনেকে। ‘চাঁদের হাট’-এর স্লোগান ছিল ‘আমরা সুন্দর হব’। এই সুন্দর হওয়ার অর্থ ছিল, নিজের জীবন সুন্দর করে বড় ও কৃতি মানুষ হওয়া। আমার ‘চাঁদের হাট’-এর বন্ধুরা অনেকেই তাই হয়েছে। একেকজন একেক ক্ষেত্রে কৃতি। ফরিদুর রেজা সাগর শিশুসাহিত্যে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। আফজাল হোসেনের পরিচয় অনেকগুলো। লেখক, অভিনেতা, কবি, নির্মাতা, অসামান্য চিত্রশিল্পী, এককথায় বহুগুণে গুণান্বিত মানুষ। একদিকে সাগর, আরেকদিকে আফজাল। এই দুই বন্ধুর কল্যাণে আর তাঁদের নেপথ্যে থেকে সানাউল আরেফিন, আমাদের আরেক বন্ধু এগিয়ে নিয়েছিল ‘ছোটকাকু উৎসব’। আফজাল- আরেফিনের বিজ্ঞাপন সংস্থা ‘মাত্রা’ করেছিল সামগ্রিক আয়োজন।
‘ছোটকাকু’ ফরিদুর রেজা সাগরের এক জনপ্রিয় চরিত্র। ছোটকাকু গোয়েন্দা। অতি তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন। অসাধারণ সব রহস্যের মীমাংসা করেন। এই সিরিজের ৪৮টি বই লিখেছে সাগর। তবে শুধু ডিডেকটিভ গল্পের মধ্যেই লেখাটিকে সে সীমাবদ্ধ রাখেনি। ‘ছোটকাকু’ সিরিজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—দেশপ্রেম। এই সিরিজের প্রতিটি লেখার পটভূমি বাংলাদেশের একেকটি বিখ্যাত এলাকা, জেলা নিয়ে। যেমন—‘কক্সবাজারের কাকাতুয়া’, ‘খেলা হলো খুলনায়’, ‘চুপিচুপি চট্টগ্রামে’, ‘ঢাক বাজলো ঢাকায়’ এই রকম। কাহিনির সঙ্গে সঙ্গে পাঠক ভ্রমণ করতে থাকেন দেশের একেকটি অঞ্চলে। বইয়ের পাতা থেকে ছোটকাকুকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে এলো বিখ্যাত আফজাল হোসেন। ছোটকাকুর একেকটি বই নিয়ে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ শুরু করল সে। এ পর্যন্ত ১৫টি বই থেকে ২০০ পর্বের নাটক তৈরি করা হয়ে গেছে। সিরিজটি শিশু-কিশোরদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। বই পড়ে তারা যে আনন্দ পেয়েছে, নাটক দেখেও একই আনন্দ। আফজাল নিজে ছোটকাকু চরিত্রে অভিনয় করছে। তার জনপ্রিয়তা সব সময়ই আকাশচুম্বী। ছোটকাকু হিসেবে সে যেন জনপ্রিয়তার চূড়ান্তে পৌঁছে গেছে। সাগরের মাথায় নতুন নতুন আইডিয়া গিজগিজ করে। এবার সে আফজাল-আরেফিনকে নিয়ে পরিকল্পনা করল দুই দিনব্যাপী ‘ছোটকাকু উৎসব’-এর। তেজগাঁও এলাকার একটি বিশাল হলে ব্যবস্থা করা হলো। হাজার হাজার শিশু-কিশোর এই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে চলে এলো। তাদের সঙ্গে এলেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। ছোটকাকু সিরিজের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সমাজের নানাস্তরের চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব। মনোমুগ্ধকর বহু রকমের আয়োজনের ‘ছোটকাকু উৎসব’ এক বিশাল ঘটনা হয়ে দাঁড়াল। ছোট ছোট চারটি পরির মতো শিশু নেচে নেচে গান করল ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’। চোখ থেকে এই নৃত্যের অনুষ্ঠানটি আমি সরাতেই পারছি না। মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছিলাম তাদের উপস্থাপনায়। আর মুগ্ধ হয়েছিলাম কাজী নওসাবা আহমেদের পাপেটশোটা দেখে। এত সুন্দর, এত সাবলীল আর এত শক্তিশালী বক্তব্য, শুনে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। নওসাবা খুব গুণী মেয়ে। আর যাঁর কথা বিশেষভাবে বলতে চাই, তাঁর নাম আব্দুন নূর তুষার। তুষারকে নতুন করে পরিচয় করার কিছু নেই, তিনি স্বনামধন্য। আমি বহু বছর ধরে তুষারের ভক্ত, অনুরাগী। বিতর্কের গুরু তুষারের মনোগ্রাহী বিতর্ক শুনে আসছি বহু বছর ধরে। দেশের বহু বিখ্যাত বিতার্কিক তৈরি করেছেন তিনি। একসময় বিটিভিতে ‘শুভেচ্ছা’ নামে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করতেন। সেই অনুষ্ঠানের আমি এতই ভক্ত ছিলাম, আমার ছোট মেয়ের নাম রাখলাম ‘শুভেচ্ছা’। আব্দুন নূর তুষারের মতো পড়াশোনা করা, জ্ঞানী ও মেধাবী মানুষ আমাদের সমাজে বিরল। আর তাঁর বাচনভঙ্গি এত স্নিগ্ধ ও আকর্ষণীয় যে, তুষার কথা বলতে শুরু করলে তাঁর দিক থেকে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো উপায়ই নেই। তুষারের জাদুকরী উপস্থাপনায় ‘ছোটকাকু উৎসব’-এর প্রথম দিনের বিকেলবেলার অনুষ্ঠান খুবই আকর্ষণীয় হয়েছিল।
শিশু-কিশোরদের উৎসব আনন্দের এই খরারকালে ‘ছোটকাকু উৎসব’ যেন এক বাতিঘরের ভূমিকা পালন করল। উৎসবটি যেন আমাদের পথ দেখাল, ‘হ্যাঁ, এই ধরনের আয়োজন করো। আমাদের শিশু-কিশোরদের মন সৃজনশীলতার দিকে ফেরাও, তাদের আনন্দ উদ্যাপনের বন্ধ হওয়া দরজাগুলো খুলে দাও।’ সাগর- আফজালের ‘ছোটকাকু উৎসব’ যে পথ দেখাল, আমি আশা করব এই পথ অনুসরণ করে আরো অনেক সামাজিক সংগঠন এ ধরনের উৎসব আনন্দের ব্যবস্থা করবে। আমাদের জীবনের চারদিকে যে অন্ধকার ঘনিয়ে উঠেছে, সেই অন্ধকারে আলো ফেলার ব্যবস্থা করবে। একটি আলোকশিখা থেকে জ্বলে উঠবে শত শত আলোকশিখা, হাজার লক্ষ আলোকশিখা, অন্ধকার কেটে যাবে। আমরা আলো চাই, আরো আলো।