মেসির বিদায়ী ম্যাচে নার্ভাস ছিল আর্জেন্টিনা: স্কালোনি
স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ। এমন আবেগঘন মুহূর্তে মাঠের খেলায়ও তার প্রভাব পড়েছিল বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ হলেও ম্যাচটির শুরুটা প্রত্যাশামতো ভালো হয়নি। কারণ, পুরো দলের ওপরই ছিল বিদায়ের আবেগ ও চাপ।
স্কালোনির মতে, বিশেষ এই রাতে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে সতীর্থরা অনেকটাই নার্ভাস ছিলেন। মেসিকে তার সেরা বিদায় উপহার দেওয়ার তাড়নাই তাদের স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে।
স্কালোনি বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি শুধু তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। তার ওপর এমনিতেই অনেক কিছু চলছিল, তাই তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল খুব আবেগপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমার্ধে সতীর্থরা নিজেরাই বুঝতে পারছিল না কোন খেলাটা বেছে নেবে। তারা নার্ভাস ছিল, কারণ এটি ছিল বিশেষ একটি রাত। যে সতীর্থ চায় মেসি সবচেয়ে ভালোভাবে বিদায় নিক, তার জন্যও বিষয়টি সহজ নয়। তাদের জন্যও এটি ছিল অতুলনীয় একটি মুহূর্ত। এ কারণেই প্রথমার্ধ ভালো হয়নি। আমরা সবাই চেয়েছিলাম, সে যেন নিজের সেরাটা দিতে পারে।’
বেনিনের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল মেসির বিদায়। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ উপস্থিতি ঘিরে স্টেডিয়ামজুড়েই ছিল আবেগ।
এই আবেগ থেকে নিজেও মুক্ত থাকতে পারেননি স্কালোনি। জাতীয় সংগীতের সময় তার চোখে পানি দেখা যায়। মেসির সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক সময়ের কোচ হিসেবে ২০২২ বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের পথে তিনি ছিলেন তার সঙ্গী। তাই মেসির শেষ ম্যাচটি স্কালোনির কাছেও ছিল ব্যক্তিগতভাবে গভীর আবেগের একটি দিন।
স্কালোনি বলেন, ‘এটি ছিল খুব আবেগপূর্ণ এবং একই সঙ্গে দুঃখের একটি দিন। কারণ, সে আর এই জার্সি পরে খেলবে না। সে আমাদের জন্য যা করেছে, এই জার্সিকে যেভাবে রক্ষা করেছে, তার জন্য আমাদের চিরন্তন কৃতজ্ঞতা।’
মেসিকে কোচিং করানোকে নিজের স্বপ্ন হিসেবেও উল্লেখ করেন স্কালোনি। তার ভাষায়, ‘আমার জন্য তাকে কোচিং করানো ছিল স্বপ্ন, আর এখন সেটি বাস্তবতা। আমি সবার সামনে, যতটুকু শক্তি ছিল তা দিয়েই তাকে বলেছি। এমন একটি স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পেরেছি, কারণ জীবনের কোনো সময় ভাবিনি যে আমি তার কোচ হতে পারব- ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের।’
মেসির ক্ষেত্রে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, তার উপস্থিতির প্রভাবও ছিল আলাদা- এমনটাই মনে করেন স্কালোনি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন দলের কৌশলগত ও মানসিক শক্তির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে নতুন দল গড়া সম্ভব হলেও মেসির মতো নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়ের উপস্থিতি আর কখনোই পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন আর্জেন্টিনার কোচ।
স্কালোনি বলেন, ‘আপনার পাশে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় থাকলে যে অনুভূতি হয়, সেটি বোঝা অসম্ভব। তাকে পাশে পাওয়া অতুলনীয়। আমরা একটি দুর্দান্ত দল গড়ে তুলতে পারি, কিন্তু তার মতো সেই আভা আমি আর কারও মধ্যে দেখিনি। সে যা তৈরি করে, তা আমি কখনো আর কারও মধ্যে দেখিনি।’
তবে মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা থেমে থাকবে না বলেও আশাবাদী স্কালোনি। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দলে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসছেন, যা আগের দলের মধ্যে ছিল না। বিশেষ করে উইঙ্গার ব্যবহার করে খেলার নতুন পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
স্কালোনির ভাষায়, ‘আমাদের নতুন খেলোয়াড়রা এসেছে, যারা নতুন কিছু নিয়ে এসেছে। যেমন উইঙ্গার দিয়ে খেলার সুযোগ, যা আগে আমাদের ছিল না। এটি একটি ভালো বিকল্প এবং আমরা এতে খুশি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি ম্যাচ হয়েছে, আমরা দলগত ঐক্য, নতুন ধারণা এবং খেলোয়াড়দের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। তাদের অনুশীলন করতে দেখা এবং একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে দেখা আমাদের ভালো সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
মেসিকে ঘিরে দুই দশকের আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের পর এখন নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে স্কালোনির দল। মেসির জায়গা সরাসরি কেউ নিতে পারবেন না। তাই তার শূন্যতা পূরণের পরিবর্তে সমষ্টিগত শক্তির ওপর নির্ভর করেই নতুন আর্জেন্টিনা গড়ে তুলতে হবে—বিদায়ী ম্যাচের আবেগের মধ্যেই সেই বার্তাই পাওয়া গেল স্কালোনির কথায়।